Ad Code

Responsive Advertisement

অ্যাসিডিটি (Acidity)

-:রোগের বিবরণ:-





  •  এটি অজীর্ণ রোগ এর অন্তর্গত একটি রোগ। এই রোগ সাধারণত হয় বদহজম থেকে। আমরা যে খাদ্য খাই তা হজম করার জন্য পাচক রসের সঙ্গে বের হয় হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড। কিন্তু এই হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড যদি প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বের হয়, তখনি সৃষ্টি হয় এই রোগ। একেই বলে হাইপার অ্যাসিডিটি। 



  • মোটামুটি খাদ্য পরিপাকের সময় এই রস ক্ষরণ হয়। কিন্তু বদহজমের জন্য সব সময় রোগীর কম বেশি অ্যাসিড বের হয়, একে অ্যাসিডিটি বলে। এর কারণ প্রধানত অজীর্ণ রোগ।  তবে ঠিকমতো গুরুত্ব না দিলে তা জটিল হয়ে পড়তে পারে।




  • দীর্ঘদিন অ্যাসিড হতে থাকলে এর থেকে পাকস্থলী ও অন্ত্রের আলসার হতে পারে। অন্যদিকে পাকস্থলী, অন্ত্র, যকৃৎ অথবা যদি শরীরে অন্য কোন রোগ ইতিমধ্যেই বাসা বেঁধেছে, এমনটা হয় তখন তার  থেকেও অ্যাসিড রোগের সৃষ্টি হতে পারে।

 


  • লবণ, টক জিনিস, অত্যন্ত তীব্র গরম পানীয় বেশি পান করলে শরীরের  দূষিত হয়ে পড়ে এবং অম্ল রস এর আধিক্য হয়।

  •  অম্লপিত্ত রোগ সাধারণত 3 প্রকার 
  • 1. বায়ু বিকার জনিত অম্লপিত্ত।
  • 2. কফ বিকার জনিত অম্লপিত্ত। 
  • 3. পিত্ত বিকার জনিত অম্লপিত্ত।

 -:বিশেষ বিশেষ কারণ:- 
  • যেহেতু এই রোগটি প্রধানত বদহজম জনিত একটি রোগ, তাই খাবার সঙ্গে এর অনেকটাই সম্পর্ক আছে। যা তা খাওয়া, তাড়াহুড়ো করে গপাগপ খাদ্য পেটের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়া, অখাদ্য কুখাদ্য খাওয়া, গুরু পাক ভজন ইত্যাদি হল এই রোগের প্রধান কারণ। 



  • অত্যাধিক চর্বিযুক্ত খাদ্য গ্রহণ ও কম ক্ষতিকারক নয়। শরীর রক্ষা বা শরীরকে সুস্থ রাখার জন্য এগুলো থেকে যত দূরে থাকা যায় ততই ভালো। আমরা পাকাশয় এর দুরারোগ্য রোগের আক্রমণ থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকবো।



  •  কিছু লোক আছেন যারা কষা মাংস খেতে পছন্দ করেন, কিন্তু তারা টেরও পান না তাদের মূর্খতা শরীরে কত বড় ক্ষতি ডেকে আনছে। এ ধরনের খাদ্য শরীরের পরিপাক হয় না, হজম হয় না, আর যদিও বা হয় তাও অনেক দেরি করে। এবার কঠিন দুষ্পাচ্য খাবার কে বিপাক করতে আমাদের পাচন অঙ্গ কে বহুৎ মেহনত করতে হয়। কিন্তু এই শ্রম দেওয়ার একটা সীমা আছে। 



  • আমরা যদি লাগাতার অমানুষের মত এ ধরনের খাদ্য খেয়ে যাই তাহলে বাধ্য হয়ে, একসময় পাচন অঙ্গ কে হাল ছেড়ে দিয়ে হরতাল করে বসতে হয়। খাবার যদি আমরা চিবিয়ে না খাই গুরুপাক খাবার ক্রমাগত খেয়ে যাই, তাহলে আমাদের শরীরের পাচন অঙ্গ এই অতিরিক্ত শ্রমভার বইতে অক্ষম হয়ে পড়ে এবং ক্ষিপ্ত হয়ে অসহযোগিতা শুরু করে। পরিনাম স্বরূপ জন্ম নেয় অ্যাসিডিটি বা এ গুলির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত অন্যান্য রোগ অন্য। 


  • শুধু পাকস্থলীতে যদি হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড অধিক মাত্রায় তৈরি হওয়া শুরু হয়ে যায়, তাহলেই আরম্ভ হয়ে যাবে অম্লপিত্ত রোগের ভয়ঙ্কর তাণ্ডব। যে তান্ডব একটা সুস্থ সবল শরীরকে তছনছ করে দিতে পারে। কিছু লোক আছেন যারা খাবার ভালো খান ধীরেসুস্থে খান, কিন্তু তবুও এই অম্লপিত্ত রোগের প্রকোপে পড়েন। অবাক হওয়ার মতো কথা হলেও সত্যি যে, এর কারণ দাঁত ভগ্ন ও পচন ধরা। 




  • ভগ্ন ও পচন ধরা দাঁতের ফলে একে তো খাবার-দাবার ঠিকমতো চর্বিত হয়না। অন্যদিকে দাঁতের পচা ও দূষিত অংশ খাবারের সঙ্গে সোজা গিয়ে ঢোকে পাকস্থলীতে এবং দাঁতের পচাও দূষিত পদার্থ পাকাশয় এ বা অন্ত্রে গিয়ে অনেক অবাঞ্চিত রোগের জন্ম দিয়ে। ফেলে তাই দাঁত কি ঠিক রাখা এবং দুবেলা খাওয়ার পর ভালো করে দাঁত পরিষ্কার করা প্রয়োজন।



  •  আবার এক ধরনের লোক আছেন যারা দ্রুত শরীরের বল বৃদ্ধি করতে বা শরীরে মাংস গজিয়ে পালোয়ান হয়ে উঠতে, গাদা গাদা খাবার গলাধঃকরণ করে নেন। সেই সঙ্গে খান দুধ, ঘি, মাখন ,ফল, নানা পুষ্টিকর খাদ্য। শক্তিধর হয়ে ওঠার তাগিদে মানুষের এই মতিভ্রম শেষ পর্যন্ত তাদের রোগগ্রস্ত করে ছাড়ে। খাবার আমাদের ততটাই গ্রহণ করা উচিত যতটা শরীরের প্রয়োজন। প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার অবিবেচক ও নির্মম ভাবে, পেটকে গুদাম মনে করে ভরে দেওয়ার অর্থ, পাচন অঙ্গের সঙ্গে অসহযোগিতা করা। এটা গুরুতর অন্যায়, এর ফলে খুব মারাত্মক ধরনের শারীরিক ক্ষতি হয়। খাবার যদি শরীরে গিয়ে হজমই না হয় বা শরীরের অংশাদি তৈরি না করতে পারে, তাহলে একগাদা খেয়েই বা লাভ কি। আর বল বৃদ্ধির আশা করেই বা লাভ কি।




  • আমাদের পাচন ক্রিয়া তে অম্লরস যদি প্রয়োজনের তুলনায় কম তৈরি হয়, তাহলে অম্ল রস যুক্ত আবার খেতে হবে। কিন্তু শরীরে অম্লরস যদি খাদ্যের পাচনের জন্য যথেষ্ট তৈরি হচ্ছে বলে মনে হয়, তাহলে টক খাবার শরীরের ক্ষতি করতে পারে। তাছাড়া এমনিতেই খাবারের মধ্যে অত্যধিক টক যুক্ত খাবার না থাকাই ভালো। অম্লরস প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত হওয়া শরীরের পক্ষে শুভ নয়। এর দুষ্পরিনাম এর জন্য পাকাশয়, অন্ত্র তথা শরীরের অন্যান্য পাচন ক্রিয়া সহায়ক যন্ত্রকে ভুগতে হয়। এছাড়া অতিরিক্ত পান, সিগারেট, মদ ইত্যাদি নেশার জিনিসও এসিডিটির অন্যতম বড় কারণ।


  •  অ্যাসিড তৈরি করতে পারে এমন সব ওষুধের অতিরিক্ত অকারণ সেবনের ফলে ও অম্লপিত্ত রোগের সৃষ্টি হয়।

-: বিশেষ বিশেষ লক্ষণ :-
  • এই রোগের লক্ষণ গুলি খুবই স্পষ্ট। 
  • 1. অম্লপিত্ত রোগে আক্রান্ত রোগীর পেটে বা পাকস্থলীতে এবং বুকে তীব্র জ্বলন হয়।
  • 2. কখনো কখনো এর জ্বালা হয় থেকে থেকে প্রায় দিশেহারা হয়ে পড়ে।
  • 3. ফলে অনেক সময় পেট ফাঁপা বা পেটে বায়ু রোগ হয়ে থাকে।
  • 4. কিছু খেলে বিশেষ করে ভরপেট খাওয়ার 2 - 3 ঘণ্টা পর অথবা ভোর বেলার দিকে যখন পেট খালি থাকে তখন বুক পেট ও গলা জ্বালা করে।
  • 5. পেটের মধ্যে অস্বস্তি বোধ হয়, থেকে থেকে ব্যথার অনুভব হয়।
  • 6. এই অম্লপিত্ত রোগ শরীরের পাচন ক্রিয়া কে বিকৃত করে তোলে, থেকে থেকে রোগী হাই তোলে।
  • 7. টক ঢেকুর তোলে, মুখে টক জল আসে, কখনো কখনো টক টক বমি ও হয়।
  • 8. খাদ্যদ্রব্য পচে গিয়ে, পাকাশয় গ্যাস একত্রিত হয়ে, আটকে পড়ে এবং তীব্র বেদনা হয়।
  • 9. কখনও কখনও কিছু খেলে বা কিছু পান করলে তখনকার মত কিছু আরাম বোধ হলেও, পরে আবার শুরু হয়ে যায়।
  • 10. অম্লপিত্ত রোগীর মাঝে মাঝে পাতলা পায়খানা, ডায়রিয়া ও কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।
  • 11. পায়খানার মধ্যে হজম না হওয়া, অর্থাৎ অর্ধেক হজম হওয়া বা পচা খাদ্যদ্রব্য থাকতে দেখা যায়।
  • 12. রোগীর মেজাজ হয়ে পড়ে খিটখিটে, রুক্ষ, ঘন ঘন মাথা ধরে, গা ব্যথা করে, পিপাসা পায়।
  • 13.  অনেক সময় অম্লশূল বেদনা পেট থেকে পিঠে এসে ওঠে, পিঠে হুল ফোটানোর মতো ব্যথা হয়।
  • 14.  রাতের দিকে এই ধরনের ব্যথা হলে রোগীকে বাধ্য হয়ে উঠে পড়তে হয়।
  • 15. এসময়ে একটু গরম জল খেলে আরাম বোধ হয়, অবশ্য যদি তা অন্ত্রের কোন কারণ ঘটিত ব্যথা হয় তবেই।
  • 16. শরীরের এই অতিরিক্ত অম্লতা যদি রক্তের গিয়ে মেশে, তাহলে রোগী পাকস্থলী সহ সারা শরীরে জ্বালা অনুভব করে।
  • 17. একটু অস্থিরতা, থমথমে ভাব, উত্তেজনা, চিন্তিত ভাব ইত্যাদি লক্ষণও অম্লপিত্ত রোগীদের মধ্যে দেখা যায়।
  • 18. অত্যাধিক পিপাসা পায়, জিভে ময়লা থাকে।
  • 19. তারপরে বমি হলে রোগী একটু আরাম বোধ করে।
  • 20. বমি তে যদি হলুদ, সবুজ আভা থাকে, তাহলে অবশ্যই তা অম্লপিত্ত রোগের প্রধান কারণ বলে জানবেন।
  • 21. খিদে পেলেও অরুচি জনিত কারণে খেতে ইচ্ছা করে না।
  • 22. আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে বলে যে ঊর্ধ্বগামী অম্ল পিত্ত মুখ দিয়ে এবং অধোগামী অম্লপিত্ত মল দিয়ে বেরোয়।
  • 23. ঊর্ধ্বগামী অম্লপিত্ত সবুজ, হলুদ, লাল রঙের স্বচ্ছ বা মাংস ধোয়া জলের মতো দেখায়।
  • 24.  অধোগামী পিত্ত মলদার দিয়ে বের হয় এরো অনেক রং হয়। 
  • 25. যাইহোক এই রোগের লক্ষণ খুব স্পষ্ট এর লক্ষন চেনাও খুব সহজ ও চিকিৎসা করলেই রোগ পুরো সেরে যায়।
 উপরোক্ত সবগুলো লক্ষনই যে সব সময় দেখা যায় তা নয়, তবে রোগটি অসাধ্য নয় সময় চিকিৎসা করলে সেরে যায় ।কিন্তু রোগটি জটিল হয়ে পড়লে এর থেকে অনেক অসাধ্য কঠিন রোগ হতে পারে, পাকস্থলী বা অন্ত্রের ঘা পর্যন্ত হতে পারে। তাই দেরি না করে যত শীঘ্র সম্ভব চিকিৎসা শুরু করে দেয়া উচিত।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ